গাইবান্ধায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বাড়ী-ঘরে আগুন লুটপাটের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জের সাঁওতাল সম্প্রদায় অধ্যুষিত মাদারপুর গ্রামে গত ৬ নভেম্বর পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলা এবং বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান আজ ১৩ নভেম্বর প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জর সাহেবগঞ্জের সাঁওতাল অধ্যুষিত মাদারপুর গ্রামে গৃহহীন প্রায় দুইশত সাঁওতাল পরিবার অসহায় অবস্থায় খোলা আকাশের নীচে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। তাদের বসবাস করার ঘর নেই, খাদ্য নেই, পানি নেই, পরনের কাপড় নেই, চিকিৎসাও নেই।

রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের এক হাজার আটশত বিয়াল্লিশ একর জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় সাঁওতাল আদিবাসীদের সাথে চিনিকল কর্তৃপক্ষের বিরোধের কারণেই পুলিশ ও ইক্ষু খামারের শ্রমিক-কর্মচারী এবং পুলিশের সাথে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের গত ৬ নভেম্বর সংঘর্ষ হয়। তাতে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তিনজন লোক নিহত হয়েছেন ও অনেকেই আহত হয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলেছে। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ঘরের টিন, হাড়ি-পাতিল, গবাদি পশু, হাস-মুরগী, জামা-কাপড় সব কিছুই দুর্বৃত্তরা লুটপাট করে নিয়ে গিয়েছে। গৃহহীন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জন্য সরকার এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য-সহযোগিতা পাঠায়নি। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সাথে সরকারের এহেন আচরণ অত্যন্ত অন্যায় ও অমানবিক। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমি দেশী-বিদেশী সকল মানবাধিকার সংস্থা এবং সচেতন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সাঁওতালদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সাথে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পরিবার-পরিজন ও আহতদের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।