জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অষ্টম আশ্চর্য!

জামায়াতের সাবেক আমির ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার হওয়ার পরই ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল দলটির নায়েবে আমির মকবুল আহমাদকে। দীর্ঘ দিন তিনি ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের অক্টোবর মাসে জামায়াতের নতুন আমির হিসেবে নির্বাচিত হন।

এর আগে বেশ কয়েক বছর তিনি দলটির সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন। একজন ভদ্র লোক ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি দল ও দলের বাইরে সবার কাছে পরিচিত।

গত ১৭ অক্টোবর জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মকবুল আহমাদের আমির হওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়। মকবুল আহমাদ জামায়াতের আমির নির্বাচিত হয়েছেন এ সংবাদটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠে। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা-গণহত্যার সঙ্গে মকবুল আহমাদ জড়িত ছিলেন বলে ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের বরাত দিয়ে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা তাদের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে দলটির নতুন আমির মকবুল আহমাদের উঠা যুদ্ধাপরাদের অভিযোগকে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য বলে আখ্যা দিচ্ছে।তাদের ভাষায়, ‘পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের সন্ধান মিলেছে।সেটা হল জামায়াতের নতুন আমির মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ।’
এদিকে, নতুন আমির মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠায় জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকেও গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতির মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে সংগঠন দুইটির নেতারা। সরকার মকবুল আহমাদের ওপর মুক্তিযোদ্ধাকে ত্যার মিথ্যা-ভিত্তিহীন এবং বায়োবীয় অভিযোগ তুলছে বলেও তাদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বিডিসংবাদকে বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে মকবুল আহমাদ রাজনীতি করছেন। তিনি দীর্ঘদিন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারপ্রাপ্ত আমির দায়িত্ব পালন করেছেন ৬ বছর। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের কোনো অভিযোগ উঠেনি। আর জামায়াতের নতুন আমির হিসেবে তার নাম ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি হয়ে গেলেন রাজাকার কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারী। আসলে মকবুল আহমাদ কোনো বিষয় না। জামায়াতের আমিরের পদটাই হলো ফ্যাক্ট। এ চেয়ারে যেই বসেন তার বিরুদ্ধেই তারা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনবে।

তিনি বলেন, মকবুল আহমাদ জামায়াতের আমির নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার ঘরোনার একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালও লিখেছে যে, স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী যাদেরকে তাদের নেতা বানিয়েছে তাদের মধ্যে মকবুল আহমাদই প্রথম নেতা যার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা বা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নেই।

bdsangbad.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।