‘আকিমুস সালাহ’ বলতে আসলে কী বোঝায়? -আহমেদ আফগানী

নামাজ ‘কায়েম করা’ কথাটির অর্থ হচ্ছে, প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বারবার নামাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। কুরআনে নানানভাবে নামাজের কথা এসেছে প্রায় ১০৪ বার এবং প্রায় ১৮ বার আল্লাহ তায়ালা আদেশসূচকভাবে নামাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। নামাজ কায়েম বলতে আমরা সাধারণত নামাজের অনুষ্ঠান বাস্তবায়নকে বুঝি। অর্থাৎ আমরা সাধারণত যা বুঝি নিজে নামাজ পড়া অন্যদেরকে নামাজ পড়তে উৎসাহিত করাই হচ্ছে আকিমুস সালাহ বা নামাজ কায়েম। আসলে আকিমুস সালাহ বলতে কী বোঝায় তা আমরা আজ আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
নামাজ প্রতিষ্ঠা দুই ধরনের হতে পারে- ব্যক্তির মধ্যে প্রতিষ্ঠা ও সমাজের মধ্যে প্রতিষ্ঠা।
ব্যক্তির মধ্যে নামাজ প্রতিষ্ঠা আবার দুই ধরনের হতে পারে

ক. নামাজকে ব্যক্তির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করা
আমরা অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করি। আপনারা জানেন এসব স্মার্টফোনে কিছু অ্যাপস বা কিছু প্রোগ্রাম প্রথম থেকেই ইন্সটল করা থাকে আবার কিছু প্রোগ্রাম পরবর্তীতে আমাদের প্রয়োজন অনুসারে ইন্সটল করি। ঠিক তেমনি আল্লাহ তায়ালা আমাদের দেহে কিছু প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার বা অ্যাপস শুরু থেকেই ইন্সটল করে দিয়েছেন। যেমন আমরা নিঃশ্বাস নেই, ক্ষুধা লাগলে খাই, ক্লান্তি লাগলে ঘুমাই ইত্যাদি। এরপর আমরা যখন আস্তে আস্তে বড় হই তখন কিছু কিছু ব্যাপার আমরা নিজেরা নিজেদের খুশিমত ইন্সটল করে নিই যেমন কেউ গান শোনা ছাড়া থাকতে পারি না, কেউ গল্পের বই পড়তে পড়তে প্রচুর সময় ব্যয় করি, কেউ প্রচুর খেলাধুলা করি, কেউ প্রচুর টিভি দেখি ইত্যাদি। আমরা যারা যেগুলো ইন্সটল করে নিয়েছি সেগুলো ছাড়া আমরা অস্থির হয়ে পড়ি। কোন কারণে টিভি না দেখলে বা না গান শুনলে বা না বই পড়লে আমাদের কাছে সব এলোমেলো লাগে। এটাই হচ্ছে আপনি বা আমি এই বিষয়গুলোকে নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছি। ঠিক তেমনি নামাজও এইভাবে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয় আছে। কেউ যদি নামাজকে তার নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করে নেয় তখন নামাজের সময় হওয়া মাত্রই সে অস্থির হয়ে পড়বে। নামাজ পড়ার জন্য তার মন আনচান করবে। তাদের অন্তর থাকবে মসজিদের সাথে লাগোয়া।
আল্লাহর রাসূল সা: বলেছেন, আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত রাসূল সা: বলেছেন, যেদিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া থাকবে না সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজের (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। এর মধ্যে এক ধরনের ব্যক্তি যার কলব মসজিদের সাথে লেগে রয়েছে। (সহিহ বুখারি)
নামাজকে নিজের মধ্যে ইন্সটল বা প্রতিষ্ঠা করার পদ্ধতি হচ্ছে বার বার নামাজ পড়া। নামাজের প্রতি সচেতন থাকা। নামাজ না পড়ার শাস্তি এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার শাস্তি স্মরণ করা। এভাবে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নামাজ আমাদের শরীরে এবং কলবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ইনশাআল্লাহ্।
খ. নামাজের শিক্ষাকে ব্যক্তির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করা
শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক নামাজ আদায় করলেই নামাজ কায়েমের হক আদায় হয় না। বরং নামাজ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে সেই শিক্ষা নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করাও নামাজ কায়েম তথা নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। এই ব্যাপারে রাসূল সা:-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে, আবু হুরায়রা রা: বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, অমুক মহিলা নামাজ ও জাকাতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তবে সে নিজের মুখ দ্বারা তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। তিনি বললেন, সে জাহান্নামি। লোকটি আবার বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, অমুক মহিলা সম্পর্কে জনশ্রুতি আছে যে, সে কম (নফল) রোজা রাখে, কম (নফল) সদকা করে এবং নামাজও (নফল) কম পড়ে। তার দানের পরিমাণ হলো পনিরের টুকরাবিশেষ। কিন্তু সে নিজের মুখ দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। রাসূল সা: বললেন, সে জান্নাতি। (আহমাদ ও বায়হাকি, শো’আবুল ঈমান)

এই হাদিস থেকে যে বিষয়টা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো নামাজ নিয়মিত পড়েও যদি কোন ব্যক্তি নামাজের শিক্ষাকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে না পারেন, নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন তাহলে তিনি নামাজ কায়েম করতে পারেননি। তার নামাজ পড়া কোন কাজে আসবে না। তাই আমাদের নামাজ আদায়ের সাথে সাথে নিজের জীবনে নামাজের শিক্ষা কায়েম করা একান্ত কর্তব্য। এটি আকিমুস সালাহর অংশ।

এবার নামাজ থেকে যে শিক্ষাগুলো পাই সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
১. সকল কাজে আল্লাহকে স্মরণ করা
সূরা ত্বোয়াহার ১৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর। আমরা যে কাজই করি না কেন আমরা অবশ্যই সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করবো। প্রতিটা কাজ করার পূর্বে চিন্তা করবো আল্লাহ আমাকে দেখছেন, এই কাজের জন্য আমাকে জবাবাদিহি করতে হবে। এভাবে আল্লাহকে স্মরণ করে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে আমাদের দ্বারা পাপ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এটাই নামাজের শিক্ষা।
২. আল্লাহর আদেশ মানার মানসিকতা সৃষ্টি করা
সূরা বাকারার ১৭৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তোমরা মুখ পূর্ব দিক করলে না পশ্চিম দিক করলে, এটি কোনো সওয়াব বা কল্যাণের কাজ নয়। বরং সওয়াব বা কল্যাণের কাজ সে-ই করে, যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতা, কিতাব ও নবীদের বিশ্বাস করে বা মান্য করে। আর শুধু আল্লাহর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর ধনসম্পদকে আত্মীয়-স্বজন, মিসকিন, পথিক, সাহায্যপ্রার্থী ও ক্রীতদাস মুক্তির জন্য ব্যয় করে এবং নামাজ কায়েম করে, জাকাত আদায় করে, ওয়াদা করলে তা পূরণ করে, দারিদ্র্য, বিপদ-আপদ ও হক বাতিলের দ্বন্দ্বের সময় ধৈর্য ধারণ করে। এরাই (ঈমানের ব্যাপারে) সত্যবাদী এবং এরাই মুত্তাকি।
এখানে আল্লাহ তায়ালা নামাজে আমরা কোন দিক ফিরে দাঁড়াবো সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেছেন, মূল কথা হলো আল্লাহ যা বলেছেন তা করা এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকা। একজন মু’মিনের কাজের মানদন্ড হবে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সা:। তাদের কথার বা আদেশের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

৩. আল্লাহর আদেশ-নিষেধ আল-কুরআন থেকে জানার মানসিকতা তৈরি করা
নামাজে কুরআন পড়তে হয় যা থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা হলো আমাদের আদেশ নিষেধ জানা তথা জ্ঞানের উৎস হলো আল কুরআন।

৪. সতর ঢাকা বা পর্দার শিক্ষা
নামাজে সতর ঢাকা পূর্বশর্ত। এর মাধ্যমে আমাদের পর্দা শেখানো হয়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে ইসলামী শরিয়তের বিধান অত্যন্ত যৌক্তিক ও উপকারী। শরিয়ত বিশেষ কোনো পোশাক সুনির্দিষ্ট করে দেয়নি এবং কোনো নির্দিষ্ট ডিজাইন বা আকৃতিও বলে দেয়নি যে, বরং বিভিন্ন দেশ, অঞ্চল, আবহাওয়া ও মৌসুমভেদে পোশাক পরিধানের স্বাধীনতা দিয়েছে।

৫. সময়ানুবর্তিতা শিক্ষা
নামাজ সময়মত পড়তে হয়। সময়মত না পড়লে নামাজ হয় না। এই ব্যাপারে সূরা মাউনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ঐসব মুসল্লিদের জন্য ধ্বংস যারা তাদের নামাজের (সময়ের) ব্যাপারে গাফেল। এই সময়ানুবর্তিতার ব্যাপারে শুধু নামাজে নয় নামাজের বাইরেও সকল কাজে সচেতন থাকা নামাজের শিক্ষা।

৬. শরীর সুস্থ ও সবল রাখার শিক্ষা
আল্লাহ তায়ালা সূরা মায়েদায় বলেন, হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতে দন্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)। আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তবে ভালোভাবে পবিত্র হও। আর যদি অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা যদি তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে অথবা তোমরা যদি স্ত্রী সহবাস কর অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর। সুতরাং তোমাদের মুখ ও হাত তা দ্বারা মাসেহ কর। (নামাজের আগে অজু গোসল করার শর্ত আরোপের দ্বারা) তোমাদের অহেতুক অসুবিধায় ফেলা (কষ্ট দেয়া) আল্লাহর ইচ্ছা নয়, বরং এর মাধ্যমে তিনি তোমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন (পবিত্র) করতে চান (বা করার শিক্ষা দিতে চান) এবং তোমাদের জন্য তাঁর নেয়ামত (কল্যাণ কামনা) পরিপূর্ণ করে দিতে চান, যাতে তোমরা (কল্যাণপ্রাপ্ত ও খুশি হয়ে) তাঁর গুণগান করতে পার। (সূরা মায়েদাহ : ০৬)
ক. নামাজের আগে শরীর, কাপড় ও জায়গা পাক তথা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শর্তের মাধ্যমে মহান আল্লাহ মানুষকে তাদের শরীর, পোশাক-পরিচ্ছদ ও পরিবেশকে ঘন ঘন ধোয়া-মোছার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার শিক্ষা দিয়েছেন। আর এভাবে তিনি তাদের নানা ধরনের রোগের হাত থেকে মুক্ত থাকার এক সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন।
খ. ব্যায়াম করা ও ব্যায়ামে কী কী অঙ্গভঙ্গি করতে হবে তা শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে রোগমুক্ত রাখার ব্যবস্থা।
গ. মেসওয়াক করার মাধ্যমে শরীর সুস্থ রাখার শিক্ষা। পাঁচবার ওজুর সময় কেউ যদি নিয়মিত মেসওয়াক করে তার দাঁত ও মুখের রোগ অনেক কম হবে।

সমাজের মধ্যে প্রতিষ্ঠা
নামাজকে সমাজে প্রতিষ্ঠা ব্যাপারটা এই রকম- ফরজ নামাজ জামায়াতের সাথে পড়ে নামাজের অনুষ্ঠানকে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা। নামাজের অনুষ্ঠানটির আরকান-আহকামসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মানুষকে শিক্ষা দিয়ে, মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে নামাজ পড়তে পারার ব্যবস্থা করা। যখনই নামাজের আহ্বান হবে তখন সকল কাজ বাদ দিয়ে নামাজে অংশগ্রহণ করার ব্যবস্থা করা। ইসলামী সমাজে সকল মুসলিমের জন্য নামাজের জামায়াতে শরিক হওয়া বাধ্যতামূলক করা। এই প্রসঙ্গে মহান রাব্বুল আলামিন বলেন, হে ব্যক্তিগণ, যারা ঈমান এনেছ, জুমার দিন যখন নামাজের জন্য (আজানের মাধ্যমে) ডাকা হয়, তখন বেচাকেনা রেখে আল্লাহর স্মরণের দিকে (নামাজের দিকে) দ্রুত চলে যাও। এটি তোমাদের জন্য উত্তম যদি জানতে। (সূরা জুমা : ৯)
সূরা বাকারার ৪৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু কর। এই ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত পালন এবং এর ব্যবস্থা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপ্রধানেরও। সূরা হজের ৪১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারাই ঐসব লোক, তাদেরকে যদি আমি দুনিয়াতে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করি, তারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত চালু করে, ভালো কাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে। আর সকল বিষয়ের শেষ ফল আল্লাহরই হাতে।’
জামায়াতে নামাজের বিষয়টি কতটা জরুরি এই প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসূল সা:-এর হাদিস থেকে পাই, আবু হুরায়রা রা: বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, আল্লাহর কসম, আমার ঐ সব মুসলমানের ঘরে আগুন ধরিয়ে দিতে ইচ্ছে করে যারা (বিশেষ ওজর ছাড়া) আজানের পর জামায়াতে নামাজ পড়তে না এসে, ঘরে একা নামাজ পড়ে।
উপরে বর্ণিত কুরআন ও হাদিসের বক্তব্য থেকে অতি সহজে বোঝা যায় যে, ইসলাম জামায়াতে নামাজ পড়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি কাজ বন্ধ রেখে জামায়াতে নামাজ পড়তে আসা অনেক উত্তম।
এ ছাড়াও নামাজের মাধ্যমে সমাজের সদস্যদের পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ইত্যাদি সামাজিক গুণ সৃষ্টি করা।
পবিত্র কুরআনের সূরা হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, মুমিনরা পরস্পরের ভাই। আল্লাহ এখানে বলছেন, এক ভাইয়ের অন্তরে অন্য ভাইয়ের জন্য যেমন সহানুভূতি, সহমর্মিতা, স্নেহ-শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ইত্যাদি থাকে, একজন মুমিনের অন্তরেও ঠিক অন্য মুমিনের জন্য অনুরূপ অনুভূতি থাকবে।
রাসূল সা: বলেছেন, মুসলমানদের সমাজ একটি দেহের মত। দেহের কোথাও কোন ব্যথা বা কষ্ট হলে সমস্ত দেহে তা অনুভূত হয়। আবার দেহের কোথাও সুখ অনুভূত হলে তাও সমস্ত শরীরে অনুভূত হয়। মুসলমানদের সমাজও হতে হবে অনুরূপ। অর্থাৎ তাদের সমাজের কোন ব্যক্তির ওপর কোনো দুঃখ-কষ্ট এলে সমাজের সকলের উপরও তার ছাপ পড়তে হবে এবং সবাইকে সেটি দূর করারও চেষ্টা করতে হবে। আবার সমাজের কারো কোন সুখের কারণ ঘটলেও সমাজের সকলের ওপর তার ছাপ পড়তে হবে।
‘মুমিনরা পরস্পরের ভাই’ কথাটি বলেই আল্লাহ ছেড়ে দেন নাই। ভাইয়ের অন্তরে ভাইয়ের জন্য যেমন স্নেহ-শ্রদ্ধা, মমতা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ইত্যাদি থাকে তেমন মুসলমানদের সমাজের সদস্যদের পরস্পরের অন্তরেও অনুরূপ গুণাবলি সৃষ্টি করার জন্য, তিনি ব্যবস্থা দিয়েছেন জামায়াতে নামাজের। আর এটি জামায়াতে নামাজ পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
এ কথা সবাই স্বীকার করবেন যে, পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ, ওঠা-বসা যত বেশি হয়, ততই একজনের প্রতি আর একজনের মায়া-মহব্বত, স্নেহ-মমতা, সহানুভূতি, সহমর্মিতা ইত্যাদি বেশি হয়। আর তা না হলে ঐ সবগুলো বিষয়ই ধীরে ধীরে কমে যায়। জামায়াতে নামাজ মুসলমানদের সমাজের একজনের সঙ্গে আর একজনের সেই দেখা-সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

শৃঙ্খলার শিক্ষা
সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যতীত কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না। জামায়াতে নামাজের মাধ্যমে মুসলমানদের সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অপূর্ব শিক্ষা দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার মুসলমানও যদি জামায়াতে দাঁড়ায়, তবুও দেখা যায়, সোজা লাইনে দাঁড়িয়ে, কী সুন্দর শৃঙ্খলার সঙ্গে তারা একটি কাজ করছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ মুসলমানদের শিক্ষা দিতে চাচ্ছেন, তারা যেন ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি কাজ সুশৃঙ্খলভাবে করে।

সাম্যের শিক্ষা
পবিত্র কুরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন, হে মানুষ, আমি তোমাদের একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সেই সব থেকে বেশি সম্ভান্ত, যার অন্তরে আল্লাহভীতি সব থেকে বেশি।
আল্লাহ এখানে বলছেন, তিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন একজন পুরুষ ও একজন মহিলা থেকে। এরপর তিনি তাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন। তবে এই বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য পরস্পর সম্মান ও মর্যাদা নির্ণয় করা নয় বরং পরস্পরকে সহজে চেনার ব্যবস্থা করা। এরপর আল্লাহ বলেছেন, তাঁর নিকট মানুষের সম্মান-মর্যাদার মাপকাঠি হচ্ছে আল্লাহভীতি। অর্থাৎ আল্লাহর ভয় যার অন্তরে যত বেশি, আল্লাহর নিকট সে তত বেশি মর্যাদাশীল। আল্লাহর ভয়ই মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখে এবং ন্যায় কাজ করতে বাধ্য করে। তাহলে আল্লাহ বলছেন, ন্যায় কাজ করা বা বাস্তবায়ন করা এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকা বা তা প্রতিরোধ করাই হচ্ছে মানুষের মর্যাদাশীল হওয়ার মাপকাঠি। বংশ, জাতি, ধনী-গরিব, কালো-সাদা, মনিব-চাকর ইত্যাদি নিয়ে যেন অহঙ্কার সৃষ্টি না হতে পারে, সে জন্য তিনি কর্মপদ্ধতিও তৈরি করে দিয়েছেন। সেই কর্মপদ্ধতি হচ্ছে ‘জামায়াতে নামাজ’। একজন মুসলমান দিনে পাঁচবার জামায়াতে নামাজের সময় তার বংশ, ভাষা, গায়ের রং, অর্থনৈতিক, সামাজিক ইত্যাদি পরিচয় ভুলে গিয়ে অন্য মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে এক লাইনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় মনিবের পাশেই তাঁর ভৃত্য দাঁড়াতে পারে বা মনিবের মাথা যেয়ে লাগতে পারে সামনের কাতারে দাঁড়ানো তাঁর ভৃত্যের পায়ের গোড়ালিতে। এভাবে দিনে পাঁচবার বাস্তব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মুসলমানদের অন্তর থেকে বংশ, বর্ণ, ভাষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ভিত্তিক অহঙ্কার সমূলে দূর করার অপূর্ব ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সমাজ পরিচালনা পদ্ধতির বাস্তব শিক্ষা
মানবসমাজের সুখ, শান্তি, উন্নতি, প্রগতি ইত্যাদি নির্ভর করে সুষ্ঠুভাবে সমাজ পরিচালনার ওপর। সুষ্ঠুভাবে সমাজ পরিচালনা করতে হলে কী কী বিষয় দরকার, জামায়াতে নামাজ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহ প্রতিদিন পাঁচবার তা মুসলমানদের মনে করিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সেই বিষয়গুলো হচ্ছে-
ক. নেতা নির্বাচন করা
জামায়াতে নামাজের সময়, একের অধিক লোক হলেই একজন ইমাম বা নেতা বানাতে হয়। এখান থেকে আল্লাহ শিক্ষা দিচ্ছেন, কোন সামাজিক কর্মকান্ড, যেখানে একের অধিক লোক জড়িত, তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হলে একজন নেতা অবশ্যই নির্বাচন করতে হবে।
খ. পুরুষ না মহিলা নেতা
জামায়াত যদি শুধু পুরুষের হয় বা পুরুষ ও মহিলা মিশ্রিত হয়, তাহলে পুরুষ ইমাম হবে। কিন্তু জামায়াত যদি শুধু মহিলাদের হয়, তবে সেখানে মহিলা ইমাম হতে পারবে। এ থেকে আল্লাহ শিক্ষা দিতে চাচ্ছেন, যে সকল সামাজিক কর্মকান্ড পুরুষ ও মহিলা অধ্যুষিত বা শুধু পুরুষ অধ্যুষিত, সেখানে পুরুষই নেতা হবে। আর যে সকল সামাজিক কর্মকান্ড শুধু মহিলা অধ্যুষিত, সেখানে মহিলা নেতা হতে পারবে।
এর কারণ হলো, পুরুষ ও মহিলা মিশ্রিত সামাজিক কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে চালাতে হলে একটি বিশেষ দৈহিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিক গঠন দরকার। যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সব থেকে ভালো জানেন, ঐ ধরনের সামাজিক কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ঐ তিনটি গুণের প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভালো আছে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি পুরুষকেই সে দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে আল্লাহ বলেছেন, সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে। পুরুষেরা হচ্ছে নারীর পরিচালক। কারণ, আল্লাহ তাদের একজনকে অপরের ওপর বিশিষ্টতা দান করেছেন।

গ. নেতা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুণাগুণ
যে গুণাবলি থাকলে কোন ব্যক্তি নেতা হতে পারবে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গুণগুলো রাসূল সা: সুন্দরভাবে মুসলমানদের জানিয়ে দিয়েছেন, নামাজের ইমাম হওয়ার গুণাবলি বর্ণনাকারী নিম্নের হাদিসগুলোর মাধ্যমে-
হযরত আবু মাসউদ রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন : মানুষের ইমামতি করবে সে-ই, যে কুরআন ভালো পড়ে। যদি কুরআন পড়ায় সকলে সমান হয়, তবে যে সুন্নাহ বেশি জানে। যদি সুন্নাহেও সকলে সমান হয়, তবে যে হিজরত করেছে সে। যদি হিজরতেও সকলে সমান হয়, তবে যে বয়সে বেশি। কেউ যেন অপর ব্যক্তির অধিকার ও সেইস্থলে ইমামতি না করে এবং তার বাড়িতে তার সম্মানের স্থলে অনুমতি ব্যতীত না বসে। (মুসলিম)
হযরত আবু সায়িদ খুদরি রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, যখন তিন ব্যক্তি হবে, তখন যেন তাদের মধ্য হতে একজন ইমামতি করে এবং ইমামতির অধিকার তার, যে কুরআন অধিক ভালো পড়ে। (মুসলিম)
আমর ইবনে সালেমা রা: বলেন, আমরা লোক চলাচলের পথে একটি কূপের নিকট বাস করতাম, যেখান দিয়ে আরোহীগণ চলাচল করত। আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করতাম, মানুষের কী হলো? তারা যে লোকটি সম্বন্ধে বলে তিনি কে? তারা উত্তর করত, লোকটি মনে করে তাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন এবং তার প্রতি এইরূপ অহি নাজিল করেছেন। তখন আমি অহির বাণীটি এমনভাবে মুখস্থ করে নিতাম যে তা আমার অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে যেত। আরবগণ যখন ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে মক্কা বিজয়ের অপেক্ষা করছিল, তখন তারা বলত তাকে (মুহাম্মাদকে) তার গোত্রের সাথে বুঝতে দাও। যদি সে তাদের ওপর জয়লাভ করে তখন বোঝা যাবে, সে সত্য নবী। যখন মক্কা বিজয়ের ঘটনা ঘটল, তখন সকল গোত্রই ইসলাম গ্রহণে তাড়াহুড়ো করল এবং আমার পিতা গোত্রের অন্য সকলের আগে ইসলাম গ্রহণ করলেন। তিনি গোত্রে ফিরে এসে বললেন, আল্লাহর কসম আমি তোমাদের নিকট এক সত্য নবীর নিকট থেকে ফিরে এসেছি। তিনি বলে থাকেন, এই নামাজ এই সময় পড়বে এবং ঐ নামাজ ঐ সময় পড়বে। যখন নামাজের সময় উপস্থিত হবে, তখন তোমাদের মধ্য হতে কেউ যেন আজান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে ইমামতি যেন সেই ব্যক্তি করে যে অধিক কুরআন জানে। তখন লোকেরা দেখল, আমার অপেক্ষা অধিক কুরআন জানে এমন কেউ নেই। কেননা আমি পথিকদের নিকট হতে আগেই তা মুখস্থ করে নিয়েছিলাম। তখন তারা আমাকেই তাদের আগে বাড়িয়ে দিল অথচ তখন আমি ছয় কি সাত বছরের বালকমাত্র। (বুখারি)
এ হাদিসটি থেকে বোঝা যায়, নামাজের ইমাম হওয়ার জন্য কুরআনের জ্ঞান থাকা বয়সের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইবনে উমর রা: বলেন, রাসূল সা: এর হিজরতের আগে যখন প্রথম মুহাজির দল মদিনা পৌঁছলেন, তখন আবু হুযায়ফার গোলাম সালেম রা: তাদের ইমামতি করতেন। অথচ তাদের মধ্যে তখন ওমর এবং আবু সালামা ইবনে আবদুল আসাদের ন্যায় লোকও বিদ্যমান ছিলেন। (বুখারি)
হযরত সালেহ একদিকে যেমন কুরআনের বড় জ্ঞানী ছিলেন, অপর দিকে তিনি বড় কারিও ছিলেন। রাসূল সা: যে চার ব্যক্তির নিকট থেকে কুরআন শিখতে বলেছিলেন, তিনি তাঁদের অন্যতম। এ হাদিসটি থেকে বোঝা যায়, ইমাম হওয়ার যোগ্যতার মধ্যে শুদ্ধ করে পড়াসহ কুরআনের জ্ঞান থাকার গুরুত্ব বংশ, গোত্র, দেশ অথবা মনিব, গোলাম ইত্যাদির চেয়ে ওপরে।
উল্লিখিত হাদিসগুলো থেকে নিশ্চয়তা দিয়েই বলা যায়, নামাজের ইমাম হওয়ার যোগ্যতা বা গুণাগুণগুলোর প্রথম চারটিকে গুরুত্বের ক্রম অনুযায়ী রাসূল সা: যেভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন বা উল্লেখ করেছেন, তা হচ্ছেÑ
১. শুদ্ধ করে কুরআন পড়াসহ কুরআনের জ্ঞান থাকা,
২. হাদিসের জ্ঞান থাকা,
৩. হিজরত করা এবং
৪. বয়স।

কুরআনের জ্ঞান ও হাদিসের জ্ঞান থাকা খুব সহজে বোঝা গেলেও হিজরত আমাদের সাধারণত বোঝাটা একটু কষ্টকর। মদিনার প্রাথমিক সময়ে হিজরত ছিল সবচেয়ে বড় আমল যা করতে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। হিজরত করেছেন তারা যারা দ্বীন কায়েমের জন্য তাদের সকল সহায় সম্পত্তি আত্মীয়স্বজন বিসর্জন দিয়েছেন। এখনো আমাদের দেশে যারা দ্বীন কায়েমের পথে নিয়োজিত আছেন। শ্রম দিচ্ছেন ত্যাগ স্বীকার করছেন তারা নেতা হওয়ার জন্য অধিকতর যোগ্য।

নেতা নির্বাচনপদ্ধতির শিক্ষা
মুসলিম সমাজ বা দেশের নেতা তথা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার পরিষদের নেতা কী পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন করতে হবে সেটি মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন নামাজের ইমাম নির্বাচনের পদ্ধতির মাধ্যমে, যা প্রত্যেক নামাজিকে প্রতিদিন পাঁচবার অনুশীলন করতে হয়। নামাজের ইমাম নির্বাচনের ঐ পদ্ধতি রাসূল সা: জানিয়ে দিয়েছেন নিম্নের হাদিসগুলোর মাধ্যমে-
ইবনে উমর রা: বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, তিন ব্যক্তির নামাজ কবুল হবে না। যে কোন গোত্র বা জাতির ইমাম হয়েছে অথচ তারা তাকে পছন্দ করে না, যে নামাজ পড়তে আসে দিবারে। আর দিবার হলো- নামাজের উত্তম সময়ের পরের সময়কে এবং যে কোন স্বাধীন নারীকে দাসীতে পরিণত করে। (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)
উপরিউক্ত হাদিসগুলো থেকে এ কথা স্পষ্ট কোন ব্যক্তির ইমামতির যোগ্যতা থাকার পরও মুক্তাদি বা অনুসারী বা জনগণের ভোট বা সমর্থন জরুরি। অধিকাংশ জনগণের সমর্থন না থাকলে তিনি ইমামতি তথা নেতা হওয়ার যোগ্যতা হারান।
এই সকল হাদিসের আলোকে স্পষ্টভাবে নামাজের ইমাম নির্বাচনের ব্যাপারে যে বিধি-বিধান বের হয়ে আসে এবং যা প্রতিটি মুসলমান বাস্তব আমলের ভিত্তিতে দিনে পাঁচবার অনুসরণ করছে, তা হচ্ছে-
ক. ভোট বা সমর্থনের মাধ্যমে সকল বা অধিকাংশ মুক্তাদি যাকে পূর্বোল্লিখিত গুণাগুণসমূহের ভিত্তিতে অধিকতর যোগ্য মনে করবেন তিনি নামাজের ইমাম হবেন। আর এই সমর্থন দিতে হবে সকল রকম অন্যায় প্রভাব মুক্ত হয়ে।
খ. ঐ পদ্ধতি অনুসরণ করে ইমাম নির্বাচন করা ইসলামের একটি মৌলিক বিধান। কারণ, রাসূল সা: বলেছেন, ঐ পদ্ধতি অনুসরণ না করে যে ইমাম হবে, তার নামাজ কবুল হবে না। সুতরাং তাকে জাহান্নামে যেতে হবে অর্থাৎ তার সকল কর্মকান্ড ব্যর্থ হবে।

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, নামাজের অনুষ্ঠান থেকে আল্লাহ মুসলমানদের বিভিন্ন শিক্ষা দিতে চেয়েছেন। আর নামাজের ইমাম নির্বাচনের বিধিবিধানের মাধ্যমে মহান আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন, সমাজের নেতা নির্বাচন করার বিধিবিধান। তাহলে সমাজের নেতা নির্বাচনের সেই বিধি-বিধানগুলো হবেÑ
১. নেতা নির্বাচিত করতে হবে সকল বা অধিকাংশ ঈমানদার মুসলমানের সমর্থন তথা ভোটের মাধ্যমে।
২. সকল বা অধিকাংশ ঈমানদার মুসলমান ঐ ভোটের মাধ্যমে জানাবেন কোন ব্যক্তি তাদের মতে নেতা হওয়ার জন্য পূর্বোল্লিখিত গুণাগুণের ভিত্তিতে অধিকতর যোগ্য।
৩. ঐ ভোটগ্রহণ হতে হবে সকল প্রকার অন্যায় প্রভাবমুক্তভাবে।
আমরা যাতে নামাজকে ব্যক্তিগতভাবে এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি সে জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। শুধু নিয়মিত নামাজ আদায় নয় এর শিক্ষাও বাস্তবায়ন করতে হবে নতুবা আমাদের নামাজ কায়েমের হক আদায় হবে না। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রকৃতভাবে নামাজ কায়েমের তাওফিক দান করুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।