মোখলেস, মফিজ, আবুল, কুদ্দুস, মমিন নামগুলো কি আসলেই হাস্যকর ?

মোখলেস, মফিজ, আবুল, কুদ্দুস, মমিন এই নাম গুলো খুবই হাস্যকর তাই না? এই নামগুলো দেখলে বা শুনলে যেন মুখে উপহাসের হাসি চলে আসে । তাছাড়া ব্যাঙ্গ করেও বন্ধুদের এই নামে আমরা ডেকে থাকি। সম্বোধন করে থাকি এই বলে যে, “তুই একটা মফিজ, তুই মখলেস, তুই একটা আবুল ইত্যাদি ইত্যাদি”। আর আমরা এটা করে থাকি ব্যাঙ্গের সুরে। তাই একটু দেখে নেই এই নামের অর্থ গুলো কি। আসলেই কি এই নাম গুলো হাস্যকর কোন অর্থ বহন করে কি?

১) মোখলেস: “নামটি আমার মোখলেস” বাক্যটি খুবই পরিচিত পরিচিত লাগছে, তাই না। হ্যাঁ। খুবই হাস্যকর হাস্যকর মনে হচ্ছে তাই না। টিভি-রেডিওতে ‘প্রাণ ম্যাঙ্গো ক্যান্ডির কল্যাণে’ এই নামটিকে ফান হিসেবেই দেখা হয়। এমনকি যাদের নাম মোখলেস, তারাও এই নাম নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েন। আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি, এই নামটির অর্থ কী ? মোখলেস নামটি আরবি ‘মুখলিছ- صمُخْلِ’ শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ, #বিশ্বস্ত । আর সেই নামকেই আমরা ফান বানিয়েছি?

২) মফিজ: এই নামটি আমরা বাঙ্গাত্তক ভাবে ব্যাবহার করি। কিন্তু কি এই নামের অর্থ? এটি একটি আরবি নাম, যার অর্থ সফলকাম হওয়া। সাধারণত পরকালের সফলতা বুঝাতেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আমরা কে না চাই পরকালে সফল হতে ? ‘ম্যাজিক টুথ পাওডারের কল্যাণেই’ আমরা এই নাম নিয়ে ঠাট্টা করে থাকি। পরকালের সফলতা নিয়ে যদি ঠাট্টা করি, তবে কি আসলেই আমরা পরকালে সফল হতে পারবো?

৩) আবুল: এই নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি হাসি ঠাট্টা করা হয়। আমরা কি এই নামের মাহাত্ম্য জানি ? আমাদের নবীর (স.) এর উপনাম আবুল কাসেম। যার অর্থ হল “কাশেমের পিতা” ভাবুন, কি নিয়ে ফাজলামি করছি। যেখানে তার নামকে সন্মান করা দরকার ছিলো, সেখানে আমরা তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গ করছি !

৪) কুদ্দুস: قدوس সর্বাধিক হাসি ঠাট্টা করা হয় এই নামটি নিয়ে। অথচ এটি আল্লাহর একটি গুনবাচক নাম। যার অর্থ ‘মহাপবিত্র’। কেউ যদি কাউকে শুধু কুদ্দুস বলে, তবে তার পাপ হবে। কারণ এটি আল্লাহর সিফাতী নাম। বলতে হবে আব্দুল কুদ্দুস। চিন্তা করে দেখুন, আমরা আল্লাহর নাম নিয়েও রসিকতা করছি।

৫) মমিন: المؤمن আসলে এর শুদ্ধ উচ্চারণ হবে মুমিন। একজন পূর্ণাঙ্গ ঈমানদারকেই মুমিন বলে। কিন্তু দেখুন, ফেসবুকসহ বিভিন্ন স্থানে “কস কি মমিন” বলে নামটিকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে।

আজকাল বিভিন্ন ইসলামিক নাম আমাদের হাসি তামাশার খোরাক হয়ে উঠেছে। একজন মুসলিম হয়েও অজ্ঞতার বশবর্তী হয়ে এই গোনাহর কাজ করে চলেছি।এর পিছনে ইসলাম বিরুধি সমর্থনযুক্ত বহুজাগতিক কোম্পানির হাত অস্বীকার করা যায় না।

আর সবশেষে কোরআন মাজীদের একটি আয়াত দিয়ে শেষ করতে চাই- “একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাকে মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা করে না , তারাই জালেম।” [সূরা হুজরাত-আয়াতঃ১১] .

মূল : এমদাদুল হক
সম্পাদনা : এনামুল হক মনি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।