বাংলাদেশী ‘টেল এন্ডার’ বনাম ইংলিশ ‘টেল এন্ডার’

ইংল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের চলমান ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশী টেল এন্ডার ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা যেমন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি ইংলিশ টেল এন্ডাররা বাংলাদেশী বোলারদের নাকানি-চুবানি খাওয়ানো নিয়মে পরিণত করে ফেলেছে।
ক্রিকেটে ধরেই নেয়া হয় যে, ৭-৮টি উইকেটের পতনের পর যারা অবশিষ্ট থাকেন তারা আপাদমস্তক বোলার, তাদের কাছ থেকে রান-টান বিশেষ আশা করা হয় না।
অথচ ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ইংল্যান্ডের নবম ও দশম খেলোয়াড় ক্রিস ওকস এবং আদিল রশিদ বাংলাদেশী বোলারদের নিয়ে কি ছেলেখেলাটাই না খেলছিলেন।

অথচ এর আগের আটজন ব্যাটসম্যান যেভাবে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন ধারাবাহিকভাবে, তাতে কেউ ঘুণাক্ষরেও সন্দেহ করেনি দ্বিতীয় দিনে ইংল্যান্ডের ইনিংস মধ্যাহ্ন বিরতি পার হতে পারবে, কিংবা তাদের রান বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাবে।
অথচ সেটাই হয়েছে।

ওকস এবং রশিদ বাংলাদেশের রান ছাড়িয়ে লিড তো নিয়েছেনই, নিজেরাও এগিয়েছেন বড় সংগ্রহের দিকে।

ইংল্যান্ডের ইনিংসে এই দুই ব্যাটসম্যানের চাইতে বেশী রান করা একমাত্র ব্যাটসম্যান জো রুট।

ওকস-রশিদরা যে এদিনই হঠাৎ ঝলসে উঠেছেন তা নয়।
পুরো সফরের প্রতিটি ম্যাচেই দেখা গেছে তাদের এই রুদ্ররূপ।

শেষ উইকেট পর্যন্ত ব্যাট করার সামর্থ্য রয়েছে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের।
আদিল রশিদ।

ইংলিশ টেল এন্ডার আদিল রশিদ শেষ পর্যন্ত ছিলেন ৪৪ রানে অপরাজিত।
উল্টোদিকে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের অবস্থা দেখুন!

একজন-দুজন সাফল্য পেলেন তো, বাকিরা সবাই অকাতরে উইকেট বিলিয়ে এলেন।
ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ঘটল একই ঘটনা, যা পুরো সফরেই কমবেশি ধারাবাহিকভাবে চলেছে।

তামিমের ১০৪ আর মমিনুলের ৬৬ রানের পর বাকী সব ব্যাটসম্যানেরা করেছেন ৫০ রান।
মোটে ৫০ রান!

এই ৫০ এর মধ্যে সবোর্চ্চ সংগ্রাহক মাহমুদুল্লাহ।
তার রান ১৩।
দুই অংক ছুঁতে পেরেছেন আর মোটে একজন ব্যাটসম্যান।
সাকিব আল হাসান: ১০।

বাকী স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের রান দেখুন: ইমরুল কায়েস ১, মুশফিকুর রহিম ৪, সাব্বির রহমান ০, শুভাগত হোম ৬, মেহেদী হাসান মিরাজ ১।
বরঞ্চ আপাদমস্তক বোলার তাইজুল ইসলামই ভাল করেছেন।
তিনি ১২টি বল খেলেছেন। সংগ্রহ করেছেন ৫টি রান।

তামিম ইকবাল
তামিম ইকবালের শতক উদযাপন।
কেন এই পরিস্থিতি?
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর মোহাম্মদ ইসাম বলছেন, “এটা ব্যাখ্যাতীত”।
“বাংলাদেশেরতো অলরাউন্ডারের অভাব নেই। শুভাগত হোম, মেহেদী হাসান মিরাজ পর্যন্ত অলরাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃত”।

“তারা আসলে নামেই অলরাউন্ডার। এতবার এমন ঘটনা ঘটেছে যে দেখতে দেখতে সয়ে যাচ্ছে আমাদের”, বলছিলেন মোহাম্মদ ইসাম।
উল্টোদিকে ইংল্যান্ডের দশ নম্বর খেলোয়াড় পর্যন্তই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলে উল্লেখ করছিলেন তিনি।
“এমনকি ওদের দশ নম্বর ব্যাটসম্যানেরও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে একাধিক সেঞ্চুরি রয়েছে”।

আর ক্রিস ওকস কিংবা আদিল রশিদতো রীতিমত ভাল অলরাউন্ডার।
ফলে শেষ উইকেট পর্যন্ত যে ইংল্যান্ড দলের ব্যাটসম্যানরা যুদ্ধ করবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আর ইংল্যান্ডের এবারের বাংলাদেশ সফরে সেটাই ঘটছে, বলছেন মোহাম্মদ ইসাম।

মেহেদী হাসান মিরাজ
চট্টগ্রাম টেস্টের মত ঢাকা টেস্টেও এক ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেছেন নবাগত মেহেদী হাসান মিরাজ (ডানে)।
অবশ্য শেষ পর্যন্ত ক্রিস ওকসকে ফেরালেন ডেব্যুট্যান্ট মেহেদী।
ওকস তখন ছিলেন অর্ধশতক থেকে মোটে চার রান দূরে।
কিন্তু এটাকে নতুন বলের কৃতিত্ব দিচ্ছেন মি. ইসাম।
“তার আগে বলটি ছিল একটু পুরনো, খেলোয়াড়দের মনঃসংযোগও কমে গিয়েছিল কিছুটা”।

ওকসকে ফেরানের কয়েক মিনিটের মাথায় ইংল্যান্ড দল হারায় দশম উইকেটও।
কিন্তু ততক্ষণে দলটি নিয়ে নিয়েছে ২২ রানের লিড।
আর ৪৪ রান নিয়ে অপরাজিত থাকলেন আদিল রশিদ।
অথচ দিনের শুরুতে মনে হচ্ছিল, লিড থাকবে বাংলাদেশেরই।
অবশ্য এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের দুজন খেলোয়াড়দের ব্যক্তি অর্জন লক্ষণীয়।
প্রথমটি তামিমের শতক।

দ্বিতীয়টি অভিষেক ম্যাচে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেবার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও এক ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছেন নবাগত মেহেদী হাসান মিরাজ।
তিনিই প্রথম বাংলাদেশী যিনি অভিষেকের পর পরপর দুই ম্যাচে ইনিংসে ৫-এর অধিক উইকেট নিলেন।

উৎসঃ বিবিসি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।