দু ম্যাচে ১৯ উইকেট, নায়ক একজনই

ইংল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্টে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ এবং পুরো সিরিজে ম্যান অফ দ্য সিরিজ নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। উনিশ বছর বয়সী বাংলাদেশী এই স্পিনার ঢাকার এই ম্যাচে দুটো ইনিংসে ছ’টি করে মোট ১২টি উইকেট নিয়েছেন। আর চট্টগ্রাম ও ঢাকা মিলে পুরো সিরিজে নিয়েছেন ১৯টি উইকেট।
দ্বিতীয় ম্যাচটিতে টেস্ট ক্রিকেটের কুলীন দল ইংল্যান্ড যখন বিনা উইকেটে শত রান সংগ্রহ করে এগিয়ে যাচ্ছিলো তখন বাংলাদেশের দরকার ছিলো একটি উইকেট নিয়ে সেই ছন্দ ভেঙে দেওয়া। আর সেই কাজটিই করেন মিরাজ। সফরকারি দলের জুটি ভেঙে দেন তিনি। এবং তারপরেই শুরু হয় ইংল্যান্ডের উইকেটের পতনের বিরামহীন বৃষ্টি। তারপর ইংল্যান্ড দল আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা যেখানে ১০০ রান সংগ্রহ করেছিলো সেখানে মাত্র ৬৪ রান যোগ করতেই তাদের সবকটি উইকেট পড়ে যায়। আর এর নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি এই ইনিংসে একাই ৭৭ রান দিয়ে ৬টি উইকেট নিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিরিজেও দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। ওই ম্যাচেই তার অভিষেক হয়। কিন্তু তার নেওয়া উইকেট বাংলাদেশ দলকে শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্যে সাফল্য এনে দিতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেছেন, “সিনিয়র প্লেয়াররা আমাকে সাহায্য করেছেন। যখনই আমি কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছি তখনই তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন।”
“সবাই ভালো খেলেছে। আমার মনে হয় এই উইকেট ভালো ছিলো। তবে যাই হোক এই জয়ে আমরা খুব খুশি,” বলেন তিনি। মিরাজ আরো বলেছেন, তাইজুল এবং সাকিব তাকে বেশ ভালো সাপোর্ট দিয়েছে। বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলেছেন, এই জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যে একটি বড়ো ঘটনা এবং এর জন্যে তিনি সতীর্থ মিরাজকে অনেক কৃতিত্ব দিয়েছেন।

“টেস্ট ম্যাচটি দুটি দলের দিকেই ছিলো। কখনোই বোঝা যাচ্ছিলো না কারা জিতবে। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা তাদের মতো করেই খেলেছে,” বলেন তিনি। “ইংল্যান্ড যখন কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০০ রান করে ফেললো তখন কোচ খুব ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন। কারণ আমরা ভালো বল করছিলাম না। আর তখনই মিরাজ ভালো বল করতে লাগলো এবং তারপর থেকে আমরা নিয়মিত উইকেট পেতে শুরু করলাম।” মিরাজের পারফরম্যান্সের ব্যাপারে দলের অধিনায়ক বলেছেন, “তার দিক থেকে দারুণ একটা চেষ্টা ছিলো। তবে এটি তার জন্যে সূচনা মাত্র। “মুশফিকুর রহিম বলেন, “সে একজন দারুণ ব্যাটসম্যানও। আমি আশা করছি, বাংলাদেশের জন্যে সে একজন বড়ো মাপের অলরাউন্ডার হয়ে উঠবে।”

“গত দু’বছর নিজেদের মাটিতে আমরা সত্যিই ভালো খেলেছি। আমাদের একটা লক্ষ্য ছিলো নিজেদের দেশে সবকটি টিমকে হারানো। এখন আমাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, বিদেশের মাটিতে তাদেরকে হারানো,” বলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। বাংলাদেশের সাথে ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজ ড্র হয়েছে। শেষ ম্যাচে হেরে ইংল্যান্ড দলের পরবর্তী গন্তব্য ভারত। ইংলিশ ক্রিকেটাররা বলছেন, ঢাকা টেস্টের সাথে হারের কথা ভুলে গিয়ে তারা ভারতের মুখোমুখি হবেন। তবে এটা ঠিকই মেহেদী হাসান মিরাজকে ভুলে যেতে পারাটা ইংল্যান্ড দলের জন্যে খুবই কষ্টকর হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।