চা বিরতিতেই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ !

চা বিরতিতে কোনটি বেশি গরম ছিল—চা, নাকি কোচের মেজাজ? মুশফিকুর রহিম জানালেন, দ্বিতীয়টাই!

এমন তো নয়, খেলোয়াড়েরা চা বিরতিতে গিয়ে চা-ই পান করেন। আজকের চা বিরতির সময় মুশফিকেরা কী কী খেয়েছেন, সেই মেন্যু পুরো জানা নেই। তবে একটা মেন্যুর কথা এতক্ষণে সবাই জেনে গেছে—কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের ধমক!

উপমহাদেশের উইকেটে ২৭৩ রানের লক্ষ্য মোটেও সহজ কিছু নয়। কিন্তু বিনা উইকেটে ১০০ তুলে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছিল ইংল্যান্ড। সুইপ আর রিভার্স সুইপে বাংলাদেশের স্পিনারদের অসহায় করে ফেলেছেন ৫৬ তুলে ফেলা বেন ডাকেট। অন্য দিকে স্বচ্ছন্দ ছিলেন ৩৯ রানে অপরাজিত অ্যালিস্টার কুকও।

চা বিরতির পর প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। সেখান থেকেই মাত্র ৬৪ রানের মধ্যে ইংল্যান্ডের ১০ উইকেট তুলে নেন ​মিরাজ ও সাকিব। চা বিরতির আগে যে বোলিং আক্রমণকে মনে হচ্ছিল নির্বিষ, চা বিরতির পর প্রতিটা বলেই সেই বাংলাদেশকে মনে হচ্ছিল কী দুর্বোধ্য! কী এমন রহস্য এই বদলে যাওয়ার? কী এমন খেয়েছিলেন মুশফিকেরা চা বিরতিতে?

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, কোচের মেজাজ খুব একটা ভালো ছিল না। কোচের বকুনি হজম করতে হয়েছে কি না, তা সরাসরি না বললেও মুশফিক বলেছেন, ‘উত্থান-পতন ছিলই। কখনোই বোঝা যাচ্ছিল না কোন দল জিতবে। চা বিরতির সময় কোচের মেজাজ গরম ছিল। আমরা যে খুব একটা ​ভালো বোলিং করছিলাম না। তবে জানতাম, এক-দুটি উইকেট পড়লেই বদলে যাবে দৃশ্যপট। এরপর বোলাররা ঠিক জায়গায় বল করল। সত্যিই তারা অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে।’

বোলারদের মধ্যে আসল ভূমিকা রেখেছেন মিরাজ ও সাকিব। মিরাজের ৬ উইকেট, সাকিবের ৪টি। চা বিরতির পর প্রথম বলেই ডাকেটকে ফিরিয়েছেন মিরাজই। সাকিবও চা বিরতির পর নিজের প্রথম ও দলের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে ফিরিয়েছেন জো রুটকে। এরপর মিরাজের একের পর চমক। প্রথম ৬ উইকেটের ৫টিই তাঁর। শেষ ব্যাটসম্যান ফিনকে ফিরিয়ে তিনিই মুড়ে দিয়েছেন।

সাকিবের অবদান কোনো অংশে ছোট না করে তরুণ এই বোলারকে বাড়তি বাহবা দিলেন মুশফিক, ‘মেহেদী যে এতটা আলো ছড়াবে ভাবতেই পারিনি। ও কিন্তু ব্যাটসম্যান হিসেবেও অনেক ভালো। আশা করি, ও একদিন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার হয়ে উঠবে।’

মুশফিক বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইংল্যান্ড দলকেও, সফরটা করার জন্য।

prothom alo

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।