বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কুক (ভিডিও)

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেরই সেরা অর্জন। বাংলাদেশের সেরা অর্জন হলে ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় পরাজয় অবশ্যই। অন্তত অ্যালিস্টার কুকের অধিনায়কত্বে তো বটেই!

কিন্তু ইংলিশ সাংবাদিক প্রশ্নটা করতেই উড়িয়ে দিলেন কুক, ‘না, আমার মনে হয় না। বলা সহজ, আরে এটা বাংলাদেশ! কিন্তু এমন স্পিনিং উইকেট ও কন্ডিশনে ওদের বোলাররা দুর্দান্ত।’

কাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি স্পিনাররা এভাবেই বারবার ভিজলেন কুকের প্রশংসাবৃষ্টিতে। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান তো গড়ে দিয়েছে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ। ইংলিশ অধিনায়কের চোখে বাংলাদেশের পিচে যেকোনো দলের জন্যই ভয়ংকর তাঁরা, ‘ওদের বেশ ভালো কিছু স্পিনার আছে। গত কয়েক বছরে ওদের বেশ উন্নতি দেখেছি আমরা। বাউন্সি পিচে ওদের কাজ অনেক কঠিন হবে, কিন্তু এ রকম কন্ডিশনে ওরা দারুণ।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পিননির্ভর আক্রমণ এই প্রথম না বাংলাদেশের। ২০১০ সালেও স্পিন নিয়েই আক্রমণ সাজিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেবার এই মিরপুরেই বাংলাদেশের দেওয়া ২০৯ রানের লক্ষ্যটা ১ উইকেটেই পার করেছিল ইংল্যান্ড। কী এমন ঘটল যে, একই মাঠেই কাল ইংল্যান্ড হেরে গেল ১০৮ রানে!

কুক মনে করেন পার্থক্যটা দৃষ্টিভঙ্গিতে, সাহসিকতায়, ‘ওরা অবশ্যই অনেক এগিয়েছে। তবে গতবার আমরা অনেক ফ্ল্যাট উইকেটে খেলেছি। সেবার এত স্পিন হয়নি, ম্যাচও পঞ্চম দিনে গিয়েছে। কিন্তু ওরা এবার সাহসী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জেতার চেষ্টা করেছে। একটা দল তো সেটাই চাইবে, তাই না?’

উপমহাদেশে ২৫০ রান করে কখনো জেতেনি ইংল্যান্ড, কুক জয়ের আশা করেছিলেন, ‘সত্যি বলতে আমি ২৭০ রান তাড়া করা সম্ভব ভেবেছি। কিন্তু ওরা ৩০ রান বেশি করে ফেলেছে।’ তবু জিততেই চেয়েছিল ইংল্যান্ড। ২৭৩ তাড়া করে চা-বিরতির আগেই বিনা উইকেটে ১০০।

এ অবস্থা থেকেই হারের ব্যাখ্যা নেই কুকের কাছেও, ‘এটার ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন। ব্যাপারটি আসলেই অসাধারণ, কীভাবে ম্যাচ ঘুরে যায়। এমন কন্ডিশনে আমাদের অনভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছি। আমি নিজেই তখন মাঠে ছিলাম। তবু চা-বিরতির আগে-পরের পার্থক্যটা অবিশ্বাস্য। দুটি উইকেট পড়ল, ফিল্ডাররা ঘিরে ধরল, দর্শকেরাও আওয়াজ তুলল, এর মাঝে টিকে থাকা কঠিন। আমরা খুব ভালো করিনি।’

তবে এ সিরিজটি তো শুধু জয়-পরাজয়ে আটকে নেই। নিরাপত্তাশঙ্কায় বাংলাদেশ সফরটাই বাতিল হতে যাচ্ছিল।

ইংলিশ অধিনায়ক তাই এ ভেবেই খুশি যে তাঁদের এ সফরের মধ্য দিয়ে নিরাপত্তাকে ছাপিয়ে আবারও বড় হয়ে উঠল মূল বিষয়—ক্রিকেট, ‘আমি খুশি, এখানে দল নিয়ে আসতে পেরেছি। মানুষ এসেছে, সমর্থন দিয়েছে। সবারই এখানে আসা উচিত, ক্রিকেট খেলা উচিত। আমার জন্য এটা সহজ নয়, তবু বলব বাংলাদেশের জন্য দারুণ এক জয়। কিছু জিনিস একটা ম্যাচের চেয়েও বড়!’

কিছু মানুষও একটা জয়ের চেয়ে বড়। ধন্যবাদ কুক, সেটা আবারও বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। দেখুুন মনোমুগ্ধকর সংবাদ সম্মেলনের ভিডিওটি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।