শারজায় উইন্ডিজের প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তান

 

তিন ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। একই ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজেও ধবলধোলাই। এরপর তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটি টেস্টেও পরাজয়। পাকিস্তান রীতিমতো ছেলেখেলাই করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। তবে শারজাহ টেস্টে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবিয়ানরা। টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নেয়ার স্বপ্ন দেখছে উইন্ডিজ।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের তোপের মুখে পড়ে মাত্র ২৮১ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ২৪৪ রান করেছে। মিসবাহদের চেয়ে ৩৭ রানে পিছিয়ে থাকা উইন্ডিজ লিড নেয়ার পথেই রয়েছে।

ইতিহাস গড়ার মিশন নিয়েই মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান। প্রথম দল হিসেবে তিন ধরনের ফরম্যাটের সবগুলো ম্যাচ জয় থেকে এক কদম দূরে পাক শিবির। এই অতিমানবীয় কীর্তি গড়তে হলে শারজাহ টেস্টে জিততে হবে মিসবাহ উল হকের দলকে। সেই লক্ষ্যে শুরুটাও দারুণ করেছিল টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর দলটি। তবে টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে খুব একটা স্বস্তিতে নেই পাকিস্তান।

বোলারদের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ক্রেইগ ব্রাফেটের হার না মানা সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই ইনিংস ও রোস্টার চেইজ এবং শেন ডরউইচের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ানদের হয়ে ব্রাফেট ৯৫*, চেইজ ৫০ ও ডরউইচ করেন ৪৭ রান। ব্রাফেটের সঙ্গী জেসন হোল্ডার অপরাজিত রয়েছেন ৬ রান নিয়ে।

পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আমির ও ওয়াহাব রিয়াজ দুটি এবং ইয়াসির শাহ ও জুলফিকার বাবর নেন একটি করে উইকেট।

পাকিস্তানের করা ২৮১ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খুবই বাজে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ৬ রানের মাথায় লিও জনসন (১), ৩২ রানের মাথায় ড্যারেন ব্রাভো (১১) ও ৩৮ রানের মাথায় মারলন স্যামুয়েলস (০) ফিরে গেলে বেশ চাপের মুখে পড়ে ক্যারিবিয়ানরা। বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি জার্মেইন ব্লাকউডও (২৩)। দলীয় ৬৮ রানের মাথায় আমিরের বলে ফিরে যান তিনি।

৬৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উদ্ধার করেন মাটি কামড়ে পড়ে থাকা ব্রাফেট ও ছয় নম্বরে নামা চেইজ। পঞ্চম উইকেটে এই দুজন ৮৩ রানের জুটি গড়লে ম্যাচে ফিরে আসে ক্যারিবিয়ানরা। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ডরউইচকে নিয়ে ৮৫ রানের আরেকটি জুটি গড়ে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন ব্রাফেট।

ওয়াহাব রিয়াজের করা ৭৪তম ওভারের শেষ বলে ডরউইচ সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখে পাকিস্তান। তবে ব্রাফেট ও হোল্ডা বাকি চার ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচেই রাখেন।

এর আগে সোমবার টেস্টের দ্বিতীয় দিন ৮ উইকেটে ২৫৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান দিনের শুরুতেই বাকি দুই উইকেট হারিয়ে ২৮১ রানে গুটিয়ে যায়। দশ নম্বরে নামা আমির মূল্যবান ২০ রান করে পাকিস্তানের ইনিংসসে ভদ্রস্ত রূপ দেন।

পাকিস্তানের হয়ে চার-চারজন ব্যাটসম্যান হাফসেঞ্চুরি করলেও দলীয় সংগ্রহ ৩০০ স্পর্শ করেনি। টেস্ট ইতিহাসে কোনো দলের চারজন ব্যাটসম্যান হাফসেঞ্চুরি করার পর এটাই দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড। এর আগে ২০১০-১১ মৌসুমে হ্যামিল্টন টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে চারটি হাফসেঞ্চুরি সত্ত্বেও ২৭৫ রান করা নিউজিল্যান্ড তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

পাকিস্তানের হয়ে সামি আসলাম ৭৪, ইউনিস খান ৫১, মিসবাহ-উল হক ৫২ ও সরফরাজ আহমেদ করেন ৫১ রান। আজহার আলি ও আসাদ শফিক কোনো রান না করেই ইনিংসের প্রথম ওভারে আউট হন।

১৯৯০ সালের পর এই প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩০০’র কম রানে গুটিয়ে গেল পাকিস্তান। অন্যদিকে এক দশক পর প্রথমবারের মতো ইনিংসের প্রথম ওভারে দুই উইকেট হারাল দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী দেশটি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দেবেন্দ্র বিশু সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ৩টি ও রোস্টার চেইজ নেন ১টি উইকেট।

প্রসঙ্গত, টেস্ট সিরিজের আগে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সমান ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে পাকিস্তান। শারজাহ টেস্ট জিততে পারলেই প্রথম দল হিসেবে তিন ধরনের ফরম্যাটের সবগুলো ম্যাচ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বে মিসবাহ-ইউনিসের দল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।