আয়েশি জয় রংপুরের

শহিদ আফ্রিদি ও আরাফাত সানিরা খুলনা টাইটান্সকে মাত্র ৪৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে রংপুর রাইডার্সের জয়কে সময়ের ব্যাপারে পরিণত করে দেন। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে খুলনাকে নিয়ে ছেলেখেলা করেছে রংপুর। মাত্র ৮ ওভারেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে উত্তরবঙ্গের দলটি।

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১০.৪ ওভারে মাত্র ৪৪ রানে গুটিয়ে যায় খুলন টাইটান্স; বিপিএলে কোনো দলের এটাই সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার উদাহরণ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭২ ও ৯ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে রংপুর।

বিপিএলের চতুর্থ আসরে রংপুরের এটি টানা দ্বিতীয় জয়। বুধবার চিটাগং ভাইকিংসকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছিল নাঈম ইসলামের দল। অন্যদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাজশাহীকে হারিয়ে দারুণ সূচনার একদিন পর লজ্জার মুখে পড়লো খুলনা।জয়ের জন্য ৪৫ রানের সহজতম লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দেন সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ শাহজাদ। জুনায়েদ খানের করা প্রথম ওভারে দুটি চার মারেন শাহজাদ। একই বোলারের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেও চার মারেন এই আফগান ওপেনার। তবে ওভারের পঞ্চম বলে জুনায়েকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন শাহজাদ।

 

শাহজাদ ফিরে যাওয়ার পর মোহাম্মদ মিঠুন ও সৌম্য মিলে ২৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। মিঠুন ১৫ ও সৌম্য ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। শাহজাদ আউট হন ১৩ রান করে।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনাকে নিয়ে ছেলেখেলা করেন আফ্রিদি ও সানিরা। সোহাগ গাজীর করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন নিকোলাস পুরান। এরপর তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রানআউট হয়ে পুরানকে অনুসরণ করেন আবদুল মজিদ। ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই পরের ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে খুলনাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন গ্লেসন। বাকি সময়টুকু আফ্রিদি ও সানির বোলিং দাপট ও খুলনার ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলের।

১৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়া খুলনার কোমড় পুরোপুরি ভেঙে দেন আফ্রিদি। পঞ্চম ওভারের প্রথম দুই বলে ওয়েসেলস ও কাপালীকে আউট করে রংপুরকে আনন্দে ভাসান এই পাকিস্তানি রিক্রুট। ওয়েসেলসকে বোল্ড করার পর কাপালীকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আফ্রিদি। তখনও খুলনার রান ১৫; নেই ৫ উইকেট।

ষষ্ঠ উইকেটে আরিফুল হক ও শুভাগত মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ষষ্ঠ ওভারে দুটি চার মেরে খুলনাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন শুভাগত। তবে সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাকে বোল্ড করে ফের রংপুরকে চালকের আসনে নিয়ে যান আফ্রিদি। দুই ওভার পর আক্রমণে এসে আরিফুল হককে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে খুলনাকে চরম লজ্জার মুখে ঠেলে দেন সানি।

৪০ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর আর কোনো রান যোগ না করেই সানির বলে জুনায়েদ খান আউট হয়ে গেলে বিপিএলে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা আরো বৃদ্ধি পায় খুলনার। দশম ওভারের চতুর্থ বলে নূর আলমকে আউট করে খুলনাকে আরো বিপর্যয়ে ঠেলে দেন আফ্রিদি। পরের ওভারে মোহাম্মদ আসগরকে বোল্ড করে মাহমুদউল্লাহর দলের ইনিংস ৪৪ রানে গুটিয়ে দেন সানি।

খুলনাকে ধসিয়ে দিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আফ্রিদি। ৩ ওভারের স্পেলে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এই পাকিস্তানি রিক্রুট। সানি তিনটি এবং সোহাগ গাজী ও রিচার্ড গ্লেসন নেন একটি করে উইকেট। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, ২ ওভার ৪ বলে তিন ‍উইকেট নেয়ার পথে কোনো রান দেননি সানি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।