সুইডেনে এপ্লিকেশন অটাম ২০১৭: স্কলারশীপ

সুইডেনে পড়ালেখা বেশ ব্যয়বহুল। প্রোগ্রামভেদে বছরে ফি ১০-১৫ লক্ষ টাকা। সাথে লিভিং কস্ট যোগ করলে ১৫-২০ লক্ষ টাকা। অনেকের পক্ষেই এতটাকা ফি দিয়ে পড়ালেখা সম্ভব নয়। আবার পার্টটাইম কাজ করেও এত টাকা ম্যানেজ করা কষ্টসাধ্য। যারা একান্তু সুইডেনে পড়ালেখা করতে চান, তাই তাদের স্কলারশীপই ভরসা।

স্কলারশীপ মূলত দুই ধরনের। একটাকে বলা যায় ফুল স্কলারশীপ, যেটা ফি এবং লিভিং কস্ট দুটোই বহন করে। যেমন, SI স্কলারশীপ। আরেকটা শুধুমাত্র ফি মওকুফ। এই ফি মওকুফও আবার বিভিন্ন পার্সেন্টেজে হয়, যেমন ২৫%, ৫০% কিংবা ১০০%। ইউনিভার্সিটির স্কলারশীপগুলো সাধারনত এই ক্যাটাগরীর। আজকে আমরা দু’ধরনের স্কলারশীপ নিয়েই আলোচনা করব।
SI স্কলারশীপ:
সুইডেনের সবচেয়ে লোভনীয় এবং প্রেস্টিজিয়াস স্কলারশীপ হলো সুইডিস ইন্সটিটিউট স্সাডি স্কলারশীপ (SISS) সংক্ষেপে SI স্কলারশীপ। সুইডিস সরকার নন-ইউরোপিয়ান ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই স্কলারশীপ দিয়ে থাকে। এই স্কলারশীপে সুইডেন আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া হতে শুরু করে প্রতি মাসে থাকা খাওয়া এবং টিউশন ফি সব সরকার বহন করে। সাধারনত তিনটি ক্যাটাগরীতে এই বৃত্তি দেয়া হয়। বাংলাদেশিরা ক্যাটাগরী-১ এর আওতায় আবেদন করতে পারে। এই ক্যাটাগরীর আওতায় ১৯ টি দেশ রয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশিদের অবস্থান মোটামুটি ভাল। ২০১৪-১৫ তে ৮৮ জন বাংলাদেশি এই বৃত্তি পায়। এরপর ২০১৫-১৬ তে SI স্কলারশীপ দেয়া হয়নি। বিগত ২০১৬-১৭ সালে ৩০ জন বাংলাদেশি SI স্কলারশীপ পায়। এবছর মোট ৩৩৫ জনকে এই বৃত্তি দেয়া হবে।
# SI স্কলারশীপ সুবিধা:
বিমানভাড়া + টিউশন ফি (সরাসরি ইউনিকে পে করা হবে) + মাসে ৯০০০ ক্রোনা (থাকা-খাওয়া খরচ) + এমনকি ভিসা এপ্লিকেশন ফি
# আবেদনের স্টেপ:
দুইটা স্টেপে আবেদন করতে হবে। ১ম স্টেপ: ১ ডিসেম্বর – ১৬ জানুয়ারী। ২য় স্টেপ: ১-১০ ফেব্রুয়ারী।
ডকুমেন্ট:
প্রথম স্টেপে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। কোন ডকুমেন্ট লাগবে না। দ্বিতীয় পর্বে সিভি, মোটিভেশন লেটার, রিকোমেন্ডেশন লেটার, কাজের অভিজ্ঞতার সনদপত্র ইত্যাদি লাগবে। উল্লেখ্য এসব ডকুমেন্ট অরিজিনাল স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
# এপ্লিকেশন প্রসেস:
১। ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করতে হবে আগে। এই এপ্লিকেশন নাম্বার লাগবে SI স্কলারশীপ এর জন্য।
উল্লেখ্য, SI স্কলারশীপ মাস্টার্স প্রোগ্রামের একটা লিষ্ট প্রদান করে। ঐসকল প্রোগ্রামে এডমিশন হলে এই স্কলারশীপ পাওয়ার জন্য গন্য করা হয়। সুইডেনের মোটামুটি সব প্রোগ্রামই এখানে থাকে। লিস্টটা এখানে পাওয়া যাবে:
https://eng.si.se/wp-content/upload
২। প্রথম পর্বে অনলাইনে SI স্কলারশীপ এপ্লাই করতে হবে।
৩। প্রথম পর্বে উত্তীর্ন হলে দ্বিতীয় পর্বে ডকুমেন্টগুলো আপলোড করতে হবে। উল্লেখ্য, এসব ডকুমেন্টের নিজস্ব ফরম্যাট আছে যা SI ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
৪। আবেদনকারীদের অবশ্যই ৩০০০ ঘন্টা কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। উল্লেখ্য, এই কাজের ধরন যেকোন রকম হতে পারে। পার্টটাইম, ইন্টার্নশীপ, ভলান্টারী, ইত্যাদি। সবকাজের ঘন্টা যোগ করে ৩০০০ ঘন্টা হতে হবে।
৫। কাজের অভিজ্ঞতায় লীডারশীপ থাকতে হবে। সেটা ৩০০০ ঘন্টা হওয়ার দরকার নেই। যেকোন একটা অংশে এটা থাকতে পারে। যেমন লীডারশীপ ইন ভলান্টারী অর্গানাইজেশান ইত্যাদি।
ইউনিভার্সিটি স্কলারশীপ:
সুইডেনে প্রায় সব ইউনিভার্সিটির নিজস্ব স্কলারশীপ থাকে। এগুলোও সরকারী বৃত্তি, কিন্তু কেবল টিউশন ফি বহন করে, লিভিং কস্ট না। ফলে এসকল বৃত্তিপ্রাপ্তদের নিজেদের খরচ বহন করার মত সামর্থ্য দেখাতে হয় ভিসা নেয়ার ক্ষেত্রে। এই বৃত্তি সাধারনত ২৫%-১০০% পর্যন্ত টিউশন ফি কাভার করে। তাই যাদের লিভিং কস্ট বহন করার মত সামর্থ্য আছে তাদের জন্য ভালো অপশন। এধরনের বৃত্তির আলাদা কোন সেন্ট্রাল প্রসেসিং সিস্টেম নাই। ইউনিগুলো নিজেরাই হ্যান্ডেল করে। তাই যে ইউনিতে আবেদন করবেন, সেই ইউনির ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের স্কলারশীপ অপশন থেকে দেখে এপ্লাই করতে হবে। যাদের এডমিশন হবে, তাদের মধ্যে থেকে বাছাই করে এই বৃত্তি দেয়া হবে এবং ইমেইলের মাধ্যমে স্টুডেন্টদের জানিয়ে দেয়া হবে। উল্লেখ্য, SI স্কলারশীপ বা অন্যান্য ইউনিতে এপ্লাই করলেও এই বৃত্তি করতে কোন বাধা নেই। কারণ শেষ পর্যন্ত স্টুডেন্ট যেই প্রোগ্রাম পড়বে, সেটার স্কলারশীপই কার্যকর হবে। তাই যত বেশি এপ্লিকেশন, তত বেশি সম্ভাবনা। ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে গিয়ে তাই স্কলারশীপ সুবিধা দেখুন, যথাযত প্রক্রিয়ায় আবেদন করুন।

লুন্ড ইউনিভার্সিটি জুবিলী স্কলারশীপ:
এটাও আসলে একটা ইউনিভার্সিটি স্কলারশীপ। তবুও বিশেষভাবে উল্লেখ করছি কারন এবছর লুন্ড ইউনিভার্সিটি ৩৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩,৫০০০ ইউরো সমপরিমান বৃত্তি দিচ্ছে বিদেশি স্টুডেন্টদের। তাই বাংলাদেশিদের জন্য এটা এক বিরাট সম্ভাবনা। এই বৃত্তি আবেদনের জন্য অনলাইনে একটা একাউন্ট করে আবেদন করতে হবে। লিংক: http://www.lund350scholarship.com/
প্লিজ নোট:
# IELTS এর সাথে স্কলারশীপ পাবেন না পাবেন তার কোন রিলেশন নাই। ভর্তির জন্য আপনার IELTS লাগবে, আরো অনেককিছু লাগবে। ভর্তি কনফার্ম হলে তবেই আসবে স্কলারশীপের কথা। কারন এডমিশন না হলে আপনার স্কলারশীপ এপ্লিকেশন কাউন্ট করা হবে না। তাই আগে ভর্তি নিশ্চিত করুন।
# মোটিভেশন লেটার এবং কাজের অভিজ্ঞতার কোয়ালিটি দেখে SI দেয়া হয়। তাই এসব ডকুমেন্ট ভালো করে করুন।
# কাজের অভিজ্ঞতা সবই এড হবে। গ্যাপ থাকলেও সমস্যা নাই।
# SI পেলে আপনাদের ভিসা নিশ্চিত বলা যায়। কোন ব্যাংক স্টেটম্যান্ট লাগে না।
# সকল স্কলারশীপ আবেদনের জন্য কোন ফি লাগে না। শুধুমাত্র ইউনিভার্সিটিতে প্রোগ্রামে এপ্লাই করতে ৯০০ ক্রোনা এপ্লিকেশন ফি দিতে হয়।
# স্কলারশীপ না পেলে আসব কিনা? – হ্যাঁ আসবেন, যদি কমপক্ষে বছরে ১০ লক্ষ টাকা ফ্যামিলি সাপোর্ট থাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।