গত ৫ বছরেই বিভিন্ন সময়ে মোট ৭০+ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে!

গতবার HSC এর প্রশ্ন ফাঁস হলো।
নাহিদ সাহেব বললেন, “ওটা প্রশ্ন নয়, প্রশ্নের মতই হুবহু দেখতে শর্ট সাজেশন” :O
.
এবারও বোর্ড পরিক্ষার প্রায় সব গুলো প্রশ্নই একের পর এক ফাঁস হচ্ছে।
.
কোন ব্যাবস্থা না নিয়েই উল্টা তিনি ঘোষণা করলেন, ২০১৮ থেকে পরিক্ষায় কোন গ্যাপ থাকবেনা।
.
এটিও কি সম্ভব!
.
অবশ্য যেখানে ছাত্রছাত্রীরা পরিক্ষার আগের দিনই প্রশ্নের মত সাজেশন পায়, সেখানে ১ দিনে সব পরিক্ষা নিতেও নাহিদ সাহেবের সমস্যা থাকার কথা নয়।
.
কিন্তু যারা প্রকৃত স্টুডেন্ট তাদের কি হবে!?
তারা ‘প্রশ্ন ফাঁস’ নামক এই ক্যান্সার থেকে কিভাবে রক্ষা পাবে?
.
গত পাঁচ বছরে প্রশ্ন ফাঁস একটি নিয়মিত ঘটনা হিসেবে জাতির কাছে পরিচিত হয়ে গেছে।
.
শুধুমাত্র ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫ বছরেই বিভিন্ন সময়ে মোট ৭০+ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে!!
.
তারমধ্য, ২০১৫ সালে HSC-SSC উভয় পরিক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।
.
২০১৩ ও ২০১৪ সালের PSC, JSC এর সব গুলো ও SSC পরীক্ষার ইংরেজি+অংক প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।
.
২০১৩ তেই HSC পরিক্ষার ঢাকা বোর্ডের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিলো।
.
১৯৯৯, ২০০৬, ২০১০, ২০১১, ২০১২ এর পর সর্বশেষ ২০১৫, মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। ফাঁসকৃত প্রশ্নেই পরিক্ষা নেওয়া হয়।
.
২০১৫ ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রতি সিট কত করে বিক্রি হয়েছিলো জানেন??
……..২০ লাখ টাকায়।
.
দ্রব্যমূল্যের মত আমাদের মেধারও এখন মূল্য নির্ধারণ করে মেধার বানিজ্য করা হয়।
.
এরাই প্রশ্ন ফাঁস করে কোনো না কোনো মেডিকেল কলেজে পড়াশুনা করছে কিংবা কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে…..
.
এরাই ডাক্তার হয়ে আমাদের ট্রিটমেন্ট করবে, অথবা এরাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করবে অথবা হবে উপরস্থ কোনো কর্মকর্তা…..
.
নেপোলিয়ন আজ বেঁচে থাকলে হয়তো বলতো- “তোমরা আমাকে প্রশ্ন ফাঁস করে দাও, আমি তোমাদের মেরুদন্ডহীন জাতি উপহার দেব”
.
আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা এখন অদ্ভুত এক বাস্তুসংস্থান ফলো করে!
.
প্রতি বিষয় ৫০০ টাকা চুক্তিতে পাশ মার্ক দেওয়া হয়। যা সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
.
PSC/JSC ১৫ নম্বর পেলে ২০, আর ২০ পেলেই টেনে পাশ করানো হয়! সাথে প্রশ্ন ফাঁস ফ্রি!
.
এরাই আবার SSC/HSC দেওয়ার পর আগে থেকে নির্ধারন করা থাকে ঠিক কাকে কোন গ্রেড পয়েন্টে ভূষিত করা হবে। সাথে প্রশ্নফাঁস ফ্রি!
.
এরাই পরে হয় ‘i am GPA-5’ টাইপের মেধাবী। তারপর এরাই মেডিকেল কিংবা ভার্সিটি লেভেলে গিয়ে লাখ লাখ টাকার মেধা বানিজ্য করে।
.
কিন্তু কেন? এভাবে আর কত?
.
যেদিকে তাকাই শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস আর প্রশ্ন ফাঁস!
.
সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। এর চেয়ে মেধাবীদের গলায় ফাঁসির দড়ি ঝুলিয়ে দেওয়াই তো উত্তম!!
.
জনৈক ব্যাক্তি বলেছিলেন, তুমি যদি কোন জাতিকে ২০০ বছর নিরবিছিন্ন শাসন শোষণ করতে চাও এবং পিছিয়ে দিতে চাও, তবে নিচের কাজ গুলো সম্পন্ন কর।
.
১. ঐ জাতির সুশিক্ষিত লোকদের হত্যা কর/অবমূল্যায়ন করো।
২. সকল প্রকৃত মেধাবীদের ধ্বংস কর।
৩. ঐ জাতির মাঝে এমন কিছু শিক্ষিত লোক ছড়িয়ে দাও যারা আসলে তোমার পদলেহন কারী এবং প্রকৃতপক্ষে মুর্খ ও লোভী।
.
আমাদের ভেবে দেখা দরকার যে, আসলে আমরা কি জনৈক ব্যাক্তির কথা অনুসরন করনেওয়ালা কিছু ধূর্ত শিয়ালের ফাঁদে আঁটকে আছি বা যাচ্ছি কিনা।
.
আসলেই ভেবে দেখা দরকার!!!

নীল সালু

Leave a Reply